
মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শৈলীর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, মহেশ্বরপাশা জোঁড় বাংলা মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক মন্দিরগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। ইতিহাস অনুসারে, ১৭৪৯ সালে নবাব আলীবর্দী খানের শাসনকালে সাধক গোপীনাথ গোস্বামী এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
মন্দিরটির গঠন ও স্থাপত্যের বিশেষত্ব, এর উচ্চতা ভূমি থেকে ০.৯৯১ মিটার এবং মন্দিরটি ৭.০১ মিটার বর্গাকার একটি পঞ্চমে অবস্থিত। দোচালা পদ্ধতিতে নির্মিত দক্ষিণ দুয়ারীসহ দুইটি ছাদ রয়েছে। মাঝ বরাবর ১.০৭ মিটার পুরু একটি দেওয়াল দ্বারা দুটি কক্ষ আলাদা করা হয়েছে, যার একটি কক্ষ বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। মন্দিরের গায়ে অসংখ্য কারুকার্য, বিশেষ করে টেরাকোটার কাজ, দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাম-রাবণের যুদ্ধ, বিভিন্ন পশু-পাখির চিত্র, সাংস্কৃতিক দৃশ্যাবলী এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নানা প্রকাশ।
মন্দিরটির বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক, কারণ এটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে এর বিশদ বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। মন্দিরটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আমাদের দেশের এসব প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া উচিত। এগুলো আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী, যা একদিন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এই নিদর্শনগুলোর সংরক্ষণে আমাদের গোটা দেশ এবং জাতি উপকৃত হবে, এবং প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (1)
জানতে পারলাম
ধন্যবাদ আপনাকে